টানা কয়েক দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ফের পতন দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৯৮ ডলারে।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলারের দাম প্রায় ১২২ টাকা ৯৯ পয়সা ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স সোনার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৩৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৮ হাজার ১৮৪ টাকা এবং এক ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা।
তবে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার আনুমানিক মূল্য। বাংলাদেশে গয়নার দাম নির্ধারণের সময় ক্যারেট, ভ্যাট, মজুরি বা মেকিং চার্জসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য এর চেয়ে বেশি হতে পারে।
বাজারের তথ্য বলছে, ২৪ ও ২৫ আগস্টের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪০ ডলারের আশপাশে ছিল। ফলে গত দুই দিনে মূল্য কিছুটা কমেছে। এর আগে আগস্টের মাঝামাঝিতেও সোনার দামে বড় পতন দেখা যায়। ১৮ আগস্ট প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন কমার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ইরান ও কাতারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় টানা কয়েক দিন ধরে তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো ব্রেন্টের দাম কমার পথে রয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪০ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি টানা পঞ্চম দিনের দরপতনের পথে রয়েছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়াতে একটি সমঝোতা হতে পারে এমন প্রত্যাশা থেকেই তেলের বাজারে দরপতন হচ্ছে।
তার মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও স্বাভাবিক হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে রাতারাতি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় তেলের দাম পুরোপুরি ফিরে যাবে এমনটা বাজারে প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ইরান সফরে গিয়ে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই অনেকটাই থেমে থাকলেও এখনো বড় কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা হয়নি। ফলে সোনা ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
আরু|



