মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন করে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার উদ্যোগের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি দিয়েছে, তবুও সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের আশায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩৫ সেন্ট বা প্রায় ০.৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৮৭ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।
একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের সেপ্টেম্বর ডেলিভারির মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮২.৪৭ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। আগের দিনের তুলনায় উভয় বেঞ্চমার্কই এক মাসেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নিচে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা সাময়িকভাবে কমেছে এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি থেমে গেছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি দেওয়ায় লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলা চলতে থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসও বাজারের নজরে রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি ব্যর্থ হলে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরু/


