মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ০৯ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ দাম।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ।
এর আগে গত সপ্তাহেও ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কাই দামের এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
এদিকে চলতি সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কুয়েত ও বাহরাইন নতুন করে ইরানি হামলার খবর জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
আরু/


