রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, তিনটি মামলার মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি গাড়ি ও উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত ভেকু। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন।
পরে দুপুরে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরু|



