মানিকগগঞ্জ আঞ্চলিক প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভাই ভাই দ্বন্দ্বে বাবার নামে অনুষ্ঠিত মেলা প্রশাসনের কাছে বন্ধের আবেদন করেও তা বন্ধ না হওয়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মরহুম হাবিবুর রহমান ওরফে হবাই ফকিরের দুই ছেলে শহিদুল ইসলাম ও কোহিনূর ইসলাম এ মেলার আয়োজন করলেও তাদের বড় ভাই আবেদ আলীসহ পরিবারের অন্যদের রয়েছে ঘোর আপত্তি।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের খাসেরচর কবরস্থান পাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই প্রয়াত হবাই ফকিরের নামে শুরু হয়েছে তিনব্যাপী এ মেলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলা আয়োজনের নামে গত কয়েক বছর ধরে শহিদুল ইসলাম ও কোহিনূর ইসলাম ইসলামী শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে আবেদ আলী গত রবিবার ( ২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারপরও মেলা চলায় মৃত হবাই ফকিরের ছেলেরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। চলমান মেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত এ মেলা বন্ধ না করলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লিখিত অভিযোগকারী মাে. আবেদ আলী জানান, আমার সৎ ভাই শহিদুল ও কোহিনূর মেলার নামে বাবার কবরে সিজদা দেয়, গান- বাজনাসহ মদ্যপানের পাশাপাশি গাঁজা সেবন করা হয়। তার বাবা জীবত অবস্থায় এমন অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন না বলেও তিনি জানান।
মেলার আয়োজক কোহিনূর ইসলাম বলেন, কিছু অর্ধেক হুজুর হয়েছে। যারা শরীয়ত মানে, মারফত মানে না। তারাই এ সমস্যার সৃষ্টি করছে।
ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি মেলার নামে অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে। ওখানে মসজিদ – মাদরাসা ও কবরস্থান রয়েছে। ওই মেলা নিয়ে তাদের পরিবারসহ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জরুরি মেলাটি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
সিংগাইর থানার ওসি মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি ধল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মেলা বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার বসু বলেন,অনুমতি দেয়া না দেয়া ডিসি স্যারের বিষয়। মেলায় অসামাজিক ও অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিলে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।


