নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, দেশের কোথাও এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের আগ্রহ নেই। আগামীকাল রবিবার যে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তার ফলাফল আগেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কে কোন আসনে জয়ী হবেন তা বণ্টন হয়ে গেছে। মানুষ ভোট দিতে যাবে না, অধিকাংশ কেন্দ্রই ভোটার শূন্য থাকবে কিন্ত এরপরও দেখবেন সরকার জালিয়াতি করে ভোটের একটা হার দেখাবে। এই ভোট হয়তো তারা আগেই দিয়ে রেখেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় আগামীকাল রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার ও আওয়ামী লীগের লোকজন জোর করে বিভিন্ন পলিসি করে মানুষকে ভোটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে অভিযোগ করে সেলিমা রহমান বলেন, ভোটারদের ভোট কেদ্রে নিয়ে যেতে নানা হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। ভোট না দিলে সরকারি ভাতা ভিজিডি, ভিজিএফ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক-ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতার কার্ড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার আওতায় থাকা প্রায় এক কোটি ভোটারকে কেন্দ্রে আনতে প্রশাসনিক শক্তিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে তার সঙ্গে বিএনপি জড়িত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী। সরকার ও আওয়ামী লীগের লোকজন নিজেরা আগুন দিয়ে বিএনপির উপর দায় চাপাচ্ছে। তাদের এই চক্রান্তের কারণে আমরা গত কিছুদিন কোনো কর্মসূচী দেইনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য গুলো লক্ষ্য করলেই দেখবেন তিনি সবসময় উসকানি দিয়েই যাচ্ছেন।
ভোটে না যাওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির সুস্থ নেতাকর্মীরা জেলে গেলেও তাদের কেউ লাশ হয়ে ফিরছেন কেউবা মারাত্মক আহত হয়ে ফিরছেন। জেলে নিয়ে এমন নির্যাতন করা হচ্ছে যা প্রকাশ পাচ্ছে না।
নানা জল্পনা-কল্পনা পেরিয়ে বিএনপি ও তার রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত দলগুলোর ভোট বর্জনের কর্মসূচীর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে রবিবার সকাল ৮টা থেকে। শাসকদল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অপরদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভোট দানে নিরুৎসাহিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিএনপি যতটা সম্ভব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমানোর লক্ষ্যে ভোটের দিন‘সর্বজনীন ভোট বর্জন’–এর ডাক দিয়েছেন। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এর আগে ভোটের বিপক্ষে গত ১০ দিন ধরে সারা দেশে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করেছিল দলটি।


