চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ‘হোটেল রাফা’তে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় সাতজনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকার হোটেলটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কর্ণফুলীর বড়উঠান এলাকার আরাফাত (২৫), পটিয়ার কেলিশহর এলাকার মো. সাকিব (৩০), চন্দনাইশের বেলতলী এলাকার মাহবুব (৩৫), বাঁশখালীর পুকুরিয়া এলাকার ইয়াসমিন (৩০), চন্দনাইশের বেলতলী এলাকার শিউলী (২৬) এবং পটিয়া পৌরসভার ইয়াসমিন (৩০)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় হোটেল থেকে মোট সাতজনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ৭৬ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাফিস ইনসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। তবে অভিযানের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হোটেলটি ঘিরে এর আগেও এলাকায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হোটেলটির উদ্বোধনী ব্যানার কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের মূল ফটকে টাঙানো হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়ার মুখে পরে ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মইজ্জ্যারটেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক। তাঁরা হোটেলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এখন হোটেলটির কার্যক্রম ও কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পুলিশের তদন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
আরু|



