দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে তরুণদের দক্ষতা বাড়াতেও কাজ করছে সরকার।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে তরুণদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, যুবসমাজের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পরে ১৯৮১ সালে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে দেশের প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এসব তরুণের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তরুণদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআইবিষয়ক এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণেরা ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো নতুন খাতেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষাংশে যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরু|



