বিএনপিকে ‘মুনাফেকের দল’ আখ্যা দিয়ে দলটির বিরুদ্ধে জাতি, রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে জন্মগতভাবেই প্রতারণার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, বিএনপি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় গিয়ে পাঁচ বছরেও এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেনি। পরে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল উত্থাপন করে এবং ১৮ দিনের মাথায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় দলটি।
শনিবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বর্তমানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-জনতা, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষসহ সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে রায় দেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে দেশকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, মুগ্ধ ও শহীদ আবু সাঈদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ক্ষমতায় বসেছেন, তারা এখনো জনগণের মনোভাব বুঝতে পারেননি। জনগণ চাইলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মতো আবারও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করা হলে কঠোর গণপ্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কারে গড়িমসির অভিযোগও তোলেন শিবির সভাপতি। তাঁর দাবি, নিজেদের স্বার্থে নির্বাচন ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগব্যবস্থা প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। চা-দাওয়াতের নামে পিএসসি সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বহালের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
সাদ্দাম বলেন, জনগণ নীরব থাকলেও অন্যায়-অবিচার মেনে নেয় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সরকারকে কঠোর গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, বর্তমান সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আরু|



