অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে এবার আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের তথ্য না দিলে আবেদন আর কার্যকর থাকবে না।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সার্ভার ও নিবন্ধন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি-সংক্রান্ত আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কার্যালয় বা নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদন কমানোর পাশাপাশি সার্ভারের ওপর চাপও কমবে।
এদিকে, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়েও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অনলাইনে আবেদন করেও বায়োমেট্রিক না দেওয়ায় ১৪ হাজার ১৯৯ জন প্রবাসীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়েছে। এসব আবেদন কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিক গ্রহণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট আবেদন বাতিল করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
শুধু আবেদন ব্যবস্থাপনাই নয়, পুরোনো ভোটার নিবন্ধন ফরম ও অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র নিষ্পত্তিতেও উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। ২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত স্ক্যান করা ও সার্ভারে আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২-এর কাগজের কপি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রক্রিয়া আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই সংরক্ষণ করতে হবে। অর্থাৎ, পুরোনো সব নথি বাতিল করা হচ্ছে না; নির্দিষ্ট সময়ের পর স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমের কাগজের কপি অপসারণ করা হবে।
নথিপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও তথ্যের গোপনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাতিলের জন্য নির্ধারিত কাগজপত্র খোলাবাজারে বিক্রি না করে সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন আবেদন ও পুরোনো নথিপত্রের জট কমবে বলে আশা করছে কমিশন।
আরু|



