মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা সময়সীমা আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের রোহিঙ্গাদের ঘিরে এমন খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরও বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহ নাউক পিয়িন গ্রামের বাসিন্দাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ওই গ্রামের ৫১ জন রোহিঙ্গাকে আটক বা অপহরণের অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গা মনিটর।
তবে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশের বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কায় বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে প্রাণ বাঁচাতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা দেখা দিলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, রাখাইনের সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি দুর্গম। সেখানে পাহাড় ও জঙ্গল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
২ হাজার ৭৮৭ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি
অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের ২ হাজার ৭৮৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপ। এ ছাড়া বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১১৯টি মণ্ডপ এবং দুর্গম এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি মণ্ডপ।
দুর্গম এলাকায় দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা পৌঁছাতে ২১টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ। পাশাপাশি বিজিবি সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশের অভিযোগের বাস্তব অবস্থা এবং বাংলাদেশের সীমান্তে সম্ভাব্য প্রভাব এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সময়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
আরু|



