আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ‘জামায়াত রাজনীতি করতে পারলে, আওয়ামী লীগ কেন পারবে না?’ তাঁর এমন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে এই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সরাসরি সমর্থন বা নুরের দল পরিবর্তনের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ডেইলি ভোরের পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সুযোগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা, আইনি বাধা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যও আলোচনায় আসে।
তিনি বলেন, সমঝোতার উদ্যোগ অসম্ভব নয়; তবে এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে নিজেদের দায় স্বীকার করে এগিয়ে আসতে হবে। পরবর্তী সময়ে সরকারপক্ষ থেকে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সমঝোতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানও জানানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। কেউ রাজনৈতিক জবাবদিহি ও অতীতের কর্মকাণ্ডের বিচারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।
নুরুল হক নুরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, নুরের এই মন্তব্য কি কেবল রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে অবস্থান, নাকি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কেরই প্রতিফলন?
আরু|



