চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন ও আনিসুল হকসহ কয়েকটি আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ তদন্ত শেষ করতে কত সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে ৭০টি মামলার কার্যক্রম চলছে। এসব মামলায় আসামি রয়েছেন শত শত ব্যক্তি।
তিনি আরও জানান, তদন্ত সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ৭০০টি অভিযোগ পেয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন পেয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দাখিল করা হয়নি। অভিযোগগুলো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা দাখিল করা হবে।
বিচারকাজের গতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তামিম বলেন, আইনে নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করছে প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি মামলার বিচার শেষ করতে গড়ে সাত থেকে আট মাস সময় লাগে। তবে মামলাভেদে তদন্তের সময় ভিন্ন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামো ও কার্যক্রম নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। এ কারণে তদন্ত ও বিচারকাজে কিছুটা সময় লেগেছে। আলোচিত মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরবর্তী কার্যতালিকা নির্ধারণ করবেন ট্রাইব্যুনাল।
আরু|



