কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। কিশোরীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তার ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা সোয়াবের নমুনা ও পরিধেয় পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসব আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের আলামত পরীক্ষা করা হবে। কিশোরীর কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও তদন্তে এসেছে।
এদিকে, কিশোরীকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। পরে সোমবার সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তবে এই মামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া শনিবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামার পর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। পরে তাঁকে লালমাই উপজেলার একটি কৃষিজমিতে নিয়ে যান। সেখানেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে কিশোরীর ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। পরে পরিবারের কাছে পাঠানো বার্তায় নিজের অবস্থান জানিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছিল কিশোরীটি। তবে বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি তার বাবা।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন। এখন ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
আরু|



