ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতাকে। এ ঘটনায় দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করে সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস এবং কেরালার সাবেক অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালসহ একাধিক নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
আটকের পর জন ব্রিটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা তাঁরা জানেন না। পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপকে নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরের দিকে আন্দোলনকারীদের যাওয়া ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত রাখা হয়।
দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত নয়, বরং দিনের শুরুতেই বিক্ষোভের আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অন্তত এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তী প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা আরও বেড়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দলের অন্য শীর্ষ নেতা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন।
বিক্ষোভে পুলিশের বাধা ও বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভের অনুমতি না থাকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে এসেছে পুলিশের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস।
আরু|



