কেএনএফের ৪০ হাজার সেট ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির প্রধান নাথান বমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
সিআইডির দাবি, চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির ফ্যাব্রিক ও সেলাই বাবদ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্যাব্রিক তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাক সেলাইয়ে আরও ৭২ লাখ টাকা।
মামলার এজাহারে নাথান বম ছাড়াও মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম ও মতিউর রহমানের নাম রয়েছে।
সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী ও হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোডাউন ও একটি গার্মেন্টস কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়।
এরপর এসব পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ, পারচেজ অর্ডারসহ বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে অর্থের প্রবাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিআইডির অভিযোগ, কেএনএফের প্রতিনিধি হিসেবে মংহলাসিন মারমা নিয়াজ হায়দার ও গোলাম আজমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পোশাক ও ফ্যাব্রিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে দুটি পারচেজ অর্ডারের মাধ্যমে ওয়েল কম্পোজিট নিট লিমিটেডকে ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া রিংভো অ্যাপারেলস, এনএন ফ্যাশন ও নূর ফ্যাশনের মাধ্যমে ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য আরও ৭২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
গত ৭ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
সিআইডি বলছে, কেএনএফের কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অর্থের উৎস ও প্রকৃত ব্যবহার গোপন করা হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নেটওয়ার্কে আর কারা জড়িত, এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে মামলার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
আরু|



