ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে মোট ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক নার্গিস আক্তার (৩৬) উপজেলার মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী।
মঙ্গলবার উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রায়ের বাজার তদন্তকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে সন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। এ জন্য রাবেয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং অন্য পাঁচজনের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা করে নেন তিনি। সব মিলিয়ে ছয়জনের কাছ থেকে ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
টাকা নেওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে তাদের ঘোরাতে থাকেন নার্গিস। পরে আবারও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়।
এরপর বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে রায়ের বাজারে ডেকে আনা হয়। সেখানে তাকে পুলিশে তুলে দেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুনের দাবি, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, তিনি গত সোমবার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে বাকি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস প্রতারণা করছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
আরু|



