সাবেক সংসদ সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে থাকা ১৭১টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরে থাকা ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে থাকা এসব অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের আশঙ্কা রয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অর্থের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখার আবেদন করা হয়।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্যাহর ৪৪টি হিসাবে রয়েছে ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকা। তাঁর স্ত্রী নীলুফা উল্যাহর ২৪টি হিসাবে রয়েছে ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা।
বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের ৩৩টি হিসাবে ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা এবং ছোট ছেলে কাজী রায়হান জাফরের ২৮টি হিসাবে ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা রয়েছে। মেয়ে আনুশকা মেহরীন জাফরের ৪২টি হিসাবে রয়েছে ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ৫০৫ টাকা।
দুদকের নথি অনুযায়ী, এসব অর্থ মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের গুলশান ও বনানী শাখায় থাকা এফডিআর, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে রয়েছে। কয়েকটি হিসাবের সঙ্গে লকার সুবিধার তথ্যও পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহর নামে মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা থাকার তথ্য দিয়েছে দুদক।
দুদকের দাবি, জাফর উল্যাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এসব অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশানের বাসা থেকে কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আরু|



