কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকাজের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ডে কেনাকাটা, কিউআর কোড, ই-কমার্স ও কিছু ফান্ড ট্রান্সফার সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।
ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত কিছু কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে। তবে কোন ব্যাংকের কোন সেবা বন্ধ থাকবে এবং কোন বিকল্প সেবা চালু থাকবে—তা ব্যাংকভেদে ভিন্ন।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, জামুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, শিমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংক গ্রাহকদের এ বিষয়ে জানিয়েছে।
সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা সেবার মধ্যে রয়েছে এটিএম থেকে নগদ টাকা উত্তোলন, কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, কিউআর কোড ও ই-কমার্স লেনদেন এবং কিছু ক্ষেত্রে এনপিএসবি-ভিত্তিক লেনদেন। মাইগ্রেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর এসব সেবা স্বাভাবিক হবে বলে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে।
তবে সব ব্যাংকে একই ধরনের পরিস্থিতি নয়। কোনো কোনো ব্যাংক বিকল্প চ্যানেলে লেনদেনের সুযোগ রেখেছে। যেমন, কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে অন্য ব্যাংকের এটিএম বা পিওএস, বিকাশ, নগদ, উপায় কিংবা অন্যান্য ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা চালু থাকার কথা জানানো হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে কোন সেবা কখন বন্ধ থাকবে, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় ৩৭টি ব্যাংক সেবা নেয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে একই সময়ে নেটওয়ার্কটির মাইগ্রেশন কার্যক্রমে একাধিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সীমিত হওয়ায় গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার জন্য কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এর কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি। তবে গ্রাহকদের আগেই নোটিশ দিয়ে জানানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাহকেরা বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তাই এই সময়ে এটিএম, কার্ড বা ডিজিটাল লেনদেনের প্রয়োজন থাকলে গ্রাহকদের আগে থেকেই নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ।
আরু|



