back to top

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক মাসে সড়কে ৪২৩ মৃত্যু, মোটরসাইকেলেই প্রাণ গেল ১৩৯ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ অক্টোবর ২০২৬ ১:৫৫ অপরাহ্ণ

সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। মোট প্রাণহানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

রোববার (৪ অক্টোবর) সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। একই সময়ে ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন।

আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা বেশি

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এ ধরনের দুর্ঘটনা ছিল ১৬৮টি। এছাড়া পথচারীকে চাপা বা ধাক্কার ঘটনা ১০৯টি, মুখোমুখি সংঘর্ষ ৯৮টি এবং যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা ছিল ৬১টি।

মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারে প্রাণহানি বেশি

সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। থ্রি-হুইলার যাত্রী নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২৬ জন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের যাত্রী ২১ জন এবং ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রলির আরোহী ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

সার্বিকভাবে সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনাগুলোতে ৬৯১টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল।

ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং মোট প্রাণহানির ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে।

একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন গাজীপুরে। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীও

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের পেশাগত পরিচয়ও বিশ্লেষণ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এতে দুই পুলিশ সদস্য, একজন সেনা সদস্য, ১৩ জন শিক্ষক, তিনজন সাংবাদিক, দুজন চিকিৎসক, চারজন প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া ২৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৫ জন ব্যবসায়ী, ১৮ জন এনজিও কর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থীও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

সময়ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকেলে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নৌ ও রেল দুর্ঘটনাতেও প্রাণহানি

সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নৌ ও রেল দুর্ঘটনাতেও প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন।

একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ

সংগঠনটির বিশ্লেষণে, অতিরিক্ত গতি ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। এর পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানাকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এছাড়া তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

পাশাপাশি আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারণারও সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির মতে, সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।

আরু|

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।

চন্দনাইশে সৌদিয়ার বাস উল্টে আহত ২০

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী...

চট্টগ্রাম-সালালাহ রুটে সরাসরি উড়বে সালাম এয়ার

চট্টগ্রাম থেকে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে সরাসরি ফ্লাইট চালু...

দেশের ৮ বিভাগের ৮ গ্রাম পুলিশ পাচ্ছেন সরকারি সম্মাননা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের আট বিভাগের...

হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটুনি, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা...

চন্দনাইশে সৌদিয়ার বাস উল্টে আহত ২০

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী...

চট্টগ্রাম-সালালাহ রুটে সরাসরি উড়বে সালাম এয়ার

চট্টগ্রাম থেকে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে সরাসরি ফ্লাইট চালু...

দেশের ৮ বিভাগের ৮ গ্রাম পুলিশ পাচ্ছেন সরকারি সম্মাননা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের আট বিভাগের...

হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটুনি, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা...

সর্বশেষ

চন্দনাইশে সৌদিয়ার বাস উল্টে আহত ২০

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী...

চট্টগ্রাম-সালালাহ রুটে সরাসরি উড়বে সালাম এয়ার

চট্টগ্রাম থেকে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সালালাহতে সরাসরি ফ্লাইট চালু...

দেশের ৮ বিভাগের ৮ গ্রাম পুলিশ পাচ্ছেন সরকারি সম্মাননা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের আট বিভাগের...