নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মূলত বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠক-সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তার বক্তব্য ছিল, রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে।
বৈঠক শেষে ইন্ডিয়া জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশজুড়ে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এছাড়া ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অক্টোবর ও নভেম্বরজুড়ে আরও কয়েকটি বড় সমাবেশের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জোরালো করেছে। তার বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো আইনগত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিস্থিতি ও ইভিএম নিয়েও আলোচনা হয়। রাহুল গান্ধী দক্ষিণ কলকাতার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন বলে বৈঠক-সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তবে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার দাবি করে রাহুল গান্ধী বিরোধী নেতাদের নিজেদের কাছে থাকা তথ্যও পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইন্ডিয়া জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা এবং এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ছয় থেকে আট মাসে ঠিক কী ধরনের ‘বড় কিছু’ ঘটতে পারে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
আরু|



