মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি জনবহুল বাজার ও সেতুতে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষও রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবার রাখাইনের কিয়াউকতাও টাউনশিপে এ হামলা চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান থেকে কিসসাপনাদি বা কালাদান সেতু এবং এর পাশের ‘ইন্ডিয়ান মার্কেট’ এলাকায় বোমা ফেলা হয়। হামলার সময় বাজারটিতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীদের ভিড় ছিল।
প্রাথমিকভাবে ৪৯ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও পরে আহতদের একজনের মৃত্যু হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০-এ দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আগুনে কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়াউকতাও বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার অংশ। সংগঠনটি মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে হামলার জন্য দায়ী করেছে। তবে হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে সামরিক বাহিনী বিভিন্ন হামলার ক্ষেত্রে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করে বলে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, রাখাইনে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম প্রাণঘাতী বিমান হামলা এটি।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। রাখাইনেও সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে।
রাখাইন দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও মানবিক সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে সহিংসতা, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়েছে; বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
আরু|



