এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুল করা পরীক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুনর্নিরীক্ষণে যেসব খাতায় নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো আলাদা করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের মূল্যায়নের ধরন পর্যালোচনা করা হবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের পর দেখা গেছে, কিছু পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো আলাদা করা হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের ভুলের ধরন পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। যারা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিও বিবেচনা করা হবে
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ৪ লাখ ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তারা প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছেন এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন-ত্রুটির তথ্যও উঠে এসেছে। কোথাও সঠিক উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়নি, কোথাও উত্তর মূল্যায়ন করা হয়নি, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাতায় দেওয়া নম্বর মূল নম্বরপত্রে সঠিকভাবে তোলা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগে প্রচলিত পদ্ধতিতে মূলত নম্বর যোগের ভুল যাচাই করা হতো। এবার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর মূল্যায়নের দুর্বলতাও চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুনর্নিরীক্ষণে পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলো পর্যালোচনার পর পরীক্ষকদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
আরু|



