রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।
রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।
পুলিশ জানায়, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে ২৪৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছে। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
এর আগে শনিবার জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের দাবি, জাসদ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবু জাফর সূর্যের ভাষ্য, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। হঠাৎ নিচতলায় হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে সেখানে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। সাংবাদিক পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে রবিউল ইসলাম নয়নের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
দলটির দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতা-কর্মীকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলার সময় বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে হামলা চালান।
জাসদের দাবি, কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী ছিলেন না। তবে পুলিশ বলছে, সেখানে কারা কী উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
আরু|



