চট্টগ্রাম নগরীর তুলাতলী, পূর্ব নাসিরাবাদস্থ ‘মাদ্রাসা-ই আবু হুরায়রা কমপ্লেক্স বায়তুর রিদওয়ান হাফেজিয়া ও ইয়াতিম খানা’র কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফ বিতরণ করেছে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশন’।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ কোরআন বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কিউ এম মোসলেহ উদ্দিনের উদ্বোধনে এবং মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সেলিম উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাই টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান নুরুল কবির। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আসক ফাউন্ডেশন’ চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি লায়ন ফরাদুল হাসান মোস্তফা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এস এ এম নুর হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল কবির বলেন, বর্তমান মেটেরিয়ালিস্টিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ইসলামী মূল্যবোধ, সুশিক্ষা ও সহিহ কোরআন শিক্ষায় অনুরাগী করে তোলা সময়ের সুনির্দিষ্ট দাবি। নৈতিকতাহীন শিক্ষা সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, আর কোরআনের শিক্ষা মানুষকে আলোর পথ দেখায়। আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের এ মানবিক ও ধর্মীয় উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।
প্রধান বক্তা মোহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, পবিত্র কোরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ও হেদায়েতের শাশ্বত উৎস। শৈশব থেকেই সন্তানদের কোরআনিক চেতনা ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য সৎ, আদর্শ ও চরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এ ধরনের কোরআন বিতরণ কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করবে এবং সমাজে নৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধকের বক্তব্যে আলহাজ্ব মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কিউ এম মোসলেহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং প্রতিটি ঘরে পবিত্র কোরআনের হেদায়েতের আলো পৌঁছে দেওয়াই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। শুধুমাত্র জাগতিক শিক্ষা দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব নয়। শান্তিময়, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে কোরআনের সুমহান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মানবতার কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ফাউন্ডেশনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা সারিবদ্ধভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ তুলে দেন। নতুন কোরআন পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। এ সময় পুরো মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
পরে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরু|



