পাঁচ মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নতুন এই চুক্তির ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়।
বিমানের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তিমূল্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনার কথা রয়েছে। এর মূল্য ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করার কথা।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে সংস্থাটির বহর আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর পথ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার পাশাপাশি পরিচালনাগত নমনীয়তা ও দক্ষতাও বাড়বে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কারণে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তাদের আস্থা রয়েছে।
বিমান বলছে, দেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণে আধুনিক, দক্ষ ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বহর গড়ে তোলাই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে, বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছিলেন, দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার কারণেই নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দুই দফার চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বোয়িংয়ের ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ।
আরু|



