গরমে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার পরও যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত ঘাম কখনো কখনো শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যা বা রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অতিরিক্ত ঘামকে হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। এটি শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশে, আবার কখনো পুরো শরীরেই দেখা দিতে পারে। সাধারণত বগল, মুখ, হাতের তালু, মাথা ও পায়ের পাতায় অতিরিক্ত ঘাম বেশি হয়।
কেন অতিরিক্ত ঘাম হয়?
হাইপারহাইড্রোসিস প্রধানত ২ ধরনের প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি।
প্রাথমিক হাইপারহাইড্রোসিসে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হাত, পা, মুখ, মাথা বা বগলে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। অন্যদিকে সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস কোনো রোগ, শারীরিক পরিবর্তন কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হতে পারে।
ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, মেনোপজ, স্থূলতা, উদ্বেগ ও কিছু সংক্রমণের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘামের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ও রক্তচাপের ওষুধসহ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণেও ঘাম বেড়ে যেতে পারে।
রাতে অতিরিক্ত ঘাম হলে সতর্ক
ঘুমের মধ্যে সামান্য ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে নিয়মিত এমনভাবে ঘাম হলে যে পোশাক বা বিছানা ভিজে যায়, বিশেষ করে এর সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কারও হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম, হাত কাঁপা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দিলে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। আবার থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে বুক ধড়ফড়, ওজন কমে যাওয়া ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ঘামে যেসব সমস্যা হতে পারে
দীর্ঘসময় ত্বক ভেজা থাকলে জ্বালা, চুলকানি ও ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে পায়ে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ঘামের সঙ্গে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া মিশে শরীরে দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং সামাজিক জীবনেও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
ঘাম কমাতে যা করবেন?
অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত গোসল করে শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে রাখা, ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করে এমন পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
পা বেশি ঘামলে নিয়মিত মোজা পরিবর্তন করতে হবে এবং জুতা শুকনো রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। অতিরিক্ত ঝাল খাবার, চা-কফি বা অ্যালকোহল খেলে ঘাম বেড়ে গেলে এগুলো কমিয়ে আনা যেতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম, মেডিটেশন বা শিথিলায়নের অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
অতিরিক্ত ঘাম যদি হঠাৎ শুরু হয়, নিয়মিত রাতে হয় কিংবা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আর ঘামের সঙ্গে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
প্রয়োজনে চিকিৎসক রক্তে শর্করা, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে অতিরিক্ত ঘামের কারণ শনাক্ত করতে পারেন। কারণ অনুযায়ী এর চিকিৎসাও রয়েছে।
তাই আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার পরও অতিরিক্ত ঘাম হলে বিষয়টিকে শুধু গরমের প্রভাব মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
আরু|



