দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম। জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকায় নিবন্ধন করেছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জন। ফলে ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামে নিবন্ধন বেশি হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন।
তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করতেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের দ্বিতীয় আসরের নিবন্ধন কার্যক্রম ১ জুলাই শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলে। প্রথম আসরেও চট্টগ্রাম নিবন্ধনের দিক থেকে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি ছিল।
চট্টগ্রামে বিপুলসংখ্যক নিবন্ধনের পেছনে স্থানীয় মানুষের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রচার-প্রচারণা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রভাব পড়েছে নিবন্ধনে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছিল কে কত বেশি নিবন্ধন করাতে পারেন।
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী জানান, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালানো হয়। উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একাধিক সভা করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়।
ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
আবদুল বারী বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্ব ও সময়ে সময়ে দেওয়া নির্দেশনা নিবন্ধন বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। প্রতিদিনই নিবন্ধন বাড়ানোর কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রচার চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিযোগিতার তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক এবং তৃণমূল পর্যায়ের তথ্য অফিসও এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। এ কাজে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।
নিবন্ধনের দিক থেকে চট্টগ্রামের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। তৃতীয় কুমিল্লায় নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন, চতুর্থ বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পঞ্চম পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন।
শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে ষষ্ঠ দিনাজপুরে ৪১ হাজার ৬৯৯, সপ্তম সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম বগুড়ায় ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধন করেছে।
এদিকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে ৮টি ইভেন্ট রাখা হলেও দ্বিতীয় আসরে আরও দুটি ইভেন্ট যুক্ত হয়েছে। ফলে এবার মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হবে। ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রথম আসরে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে তৃণমূল থেকে উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধাপে ধাপে জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা এগিয়ে যাবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা।
আরু|



