কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ সংক্ষেপে এআই এর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই খাতের উন্নয়ন ও তদারকিতে ‘এআই ফোর্স’ নামে নতুন একটি কাঠামো গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিগগিরই একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে এসব ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের প্রথম পোস্টে বলা হয়, অনেকেই মনে করেন ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামটি প্রযুক্তিটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। এ কারণে তিনি অনুসারীদের মতামত জানতে একটি অনলাইন ভোট চালু করেন। সেখানে তিনটি বিকল্প নাম দেওয়া হয় ‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’, ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’।
এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ থামানো বা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তিনি এ ধরনের উদ্বেগকে রাজনৈতিক ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দেননি বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক যে রয়েছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাতেও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এআই মডেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বড় ডাটা সেন্টার নির্মাণের ফলে বিদ্যুৎ, পানি ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্যেই সমালোচনা রয়েছে।
এদিকে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেও বিতর্ক বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন গবেষক ও প্রযুক্তি নেতার পক্ষ থেকে দ্রুতগতির এআই উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাবিধি নিয়ে সতর্কতার আহ্বান এসেছে। এর বিপরীতে ট্রাম্প অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা উন্নয়ন ধীর করার উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন এবং এআই শিল্পের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই শিল্পের বিকাশে সরকার বাধা দেবে না; বরং শিল্পটির প্রবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা করা হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইন ব্যবহার করার কথাও জানান তিনি।
নতুন ‘এআই ফোর্স’কে প্রথম মেয়াদে গঠিত ‘স্পেস ফোর্স’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবিত এআই ফোর্সের সুনির্দিষ্ট কাঠামো, বাজেট, নেতৃত্ব, আইনি অবস্থান বা দায়িত্ব কী হবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এমনকি এটি সামরিক নাকি বেসামরিক কাঠামো হবে, সে বিষয়েও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর পাশাপাশি এআই-সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে কাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বা তাঁর দায়িত্বের পরিধি কী হবে, সে বিষয়ে কোনো নাম বা নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস ট্রাম্প প্রশাসনে এআই ও ক্রিপ্টো নীতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি ওই দায়িত্ব থেকে সরে প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সহসভাপতির দায়িত্ব নেন। ফলে নতুন ‘এআই জার’ এবং ‘এআই ফোর্স’ কীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হবে, তা এখনো আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের এআই নীতিতে দুটি বিষয় সামনে এসেছেএকদিকে দ্রুত প্রযুক্তিগত বিকাশকে উৎসাহ দেওয়া, অন্যদিকে এআই-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড তদারকিতে নতুন সরকারি কাঠামো গড়ে তোলা।
আরু|



