কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বাস্থ্যসেবা বিশ্লেষণ, প্রকৌশল প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি গবেষক ও উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম। চলতি বছর তার গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি জেপিমর্গ্যান চেজ অ্যান্ড কোম্পানির দেওয়া এক চিঠিতে বৈশ্বিক আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে রাকিবুল ইসলামের গবেষণা প্রস্তাবের জন্য ২৪ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান অনুমোদনের কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে, ৩ এপ্রিল ডিপ নিউরন রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সির চিঠিতে প্রকৌশল প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি নির্ধারণে ‘এক্সপ্লেইনেবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্পের জন্য আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান অনুমোদনের কথা জানানো হয়। ওই গবেষণা দলে রাকিবুল ইসলামসহ ছয়জন গবেষক রয়েছেন।
রাকিবুল ইসলামের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। সেখানে পরিপাকতন্ত্রের পলিপ শনাক্তকরণ ও শ্রেণিবিন্যাস এবং কিডনির সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণে এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তিনি কাজ করছেন। পাশাপাশি স্প্রিঙ্গার নেচার ও আইইইইর বিভিন্ন প্রকাশনার গবেষণা পর্যালোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাজীবনে রাকিবুল ইসলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসা বিশ্লেষণে এমবিএ করেন। সেখানে তার সিজিপিএ ছিল ৪-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯৩। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটিতে শতভাগ বৃত্তিতে নেতৃত্ব বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি কার্যক্রমে যুক্ত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে গ্রামীণফোন ও স্টার আইটি লিমিটেডে কাজ করেছেন রাকিবুল। স্টার আইটি লিমিটেডে প্রায় আট বছর কাজের সময় নির্বাহী পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি কারিগরি দলের নেতৃত্ব দেন।
এ ছাড়া আন্তঃজেলা রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম রাইডঅক্সের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম ১৬টি জেলায় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রিক লাগবে লিমিটেডে আইটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (কনসালট্যান্ট) হিসেবে কাজ করছেন রাকিবুল। প্রতিষ্ঠানটি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিআইজি) এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক্সেলেন্স ইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গেও চুক্তিভিত্তিক সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন রাকিবুল ইসলাম। সাইবার অপরাধের মামলায় ফরেনসিক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান দিতে কারিগরি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পোশাক খাতের সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রির ডেটাবেস ও ওয়েবসিস্টেম তৈরিতেও তার কারিগরি দল কাজ করেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নেক্সটজেন ইনফোটেক এলএলসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন রাকিবুল ইসলাম। একই সঙ্গে ছয় বাংলাদেশি উদ্যোক্তার সঙ্গে বাল্কবাডি এলএলসির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। বাল্কবাডির ওয়েবসাইটেও রাকিবুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী চিকিৎসক মাসরুফা আক্তার মুনিও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তিনি এমবিবিএস ও এফসিপিএস পার্ট-১ সম্পন্ন করেছেন এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের এমআরসিপি পার্ট-১ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে যৌথভাবে তার নয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি এই গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ঝুঁকির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র একসঙ্গে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুদান তার এসব গবেষণা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
আরু|



