সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও শান্তি দেননি। তার ভাষ্য, বিদেশে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষকে উসকানি দিচ্ছেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থির করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ‘এই আসি, ওই আসি, আসি আসি বলেন তাহলে গেলেন কেন? থাকতেন, রাজনীতি করতেন।’
শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। তিনি ওই আন্দোলনে তরুণদের নেতৃত্ব ও দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নেওয়া উচিত। তার দাবি, যারা অপরাধী, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়; তবে সৎ মানুষ দেশের মাটিতেই থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন।
ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হবে না।
সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সীমান্তে আর ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড দেখতে চান না তারা। একই সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানেরও দাবি জানান তিনি।
দীর্ঘ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ২০০৮ সালের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের তথ্যের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলেই তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরু|



