জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি শরীরে প্রতিস্থাপন করে টানা ৯ মাস বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী টিম অ্যান্ড্রুস।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে অ্যান্ড্রুসের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়। তার প্রয়োজন ছিল কিডনি প্রতিস্থাপনের। কিন্তু প্রতিস্থাপনের জন্য কিডনির তীব্র সংকট থাকায় আগামী কয়েক বছরেও মানব কিডনি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। একই সময়ে তার জীবনঝুঁকিও বাড়ছিল।
এ অবস্থায় চিকিৎসকরা পরীক্ষামূলকভাবে তার শরীরে ‘উইলমা’ নামের একটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করেন।
প্রতিস্থাপনের পর প্রায় ৯ মাস কোনো ডায়ালাইসিস ছাড়াই তিনি জীবনযাপন করেন। শূকরের কিডনি শরীরে নিয়ে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড বলে জানানো হয়েছে।
তবে ৯ মাস পর অ্যান্ড্রুসের শরীরে থাকা শূকরের কিডনিটি ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। পরে তার শরীরে একজন মৃত মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে তিনি মানব কিডনি নিয়েই বেঁচে আছেন।
কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গের সংকট বিশ্বজুড়েই বড় সমস্যা। তাই মানুষের শরীরে প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।
এর আগে ২০২৪ সালে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে একজন রোগীর শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি ৫২ দিন পর মারা যান। প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যও এখনো সীমিত।
সেই দিক থেকে অ্যান্ড্রুসের শরীরে শূকরের কিডনি ৯ মাস কার্যকর থাকা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরু|



