ইরানে চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২০ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে বন্দি এসব আফগানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করে ইরান।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ইরানিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রতি মাসে ইরানে অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই সময়ে অন্তত তিনজন আফগানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডের এসব মামলায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার ছিল সীমিত। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায়ও ছিল স্বচ্ছতার অভাব। এমনকি দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারকেও মামলা ও তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সিরাজের আবেলাবাদ, তায়বাদ, ইয়াজদ এবং ইস্ফাহানের দাস্তগার্ড কারাগারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে।
এ ছাড়া গুল মোহাম্মদ ও কাইম হোসেনি নামে দুই আফগান নাগরিককে ইস্ফাহানের আলিখানি স্কয়ারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখানে ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, আফসার শাহ-আহমাদি, সাফাই ও সদরুদ্দিন আহমেদাজাদ নামে আরও তিন আফগান নাগরিককে গত জুলাইয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি থানা পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এসব আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রকৃতপক্ষে কতজন আফগান নাগরিককে ইরানে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন।
এর আগে ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
আরু|



