বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা বাড়তে পারে_জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তার পর দেশে জঙ্গিবাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা AQIS বাংলাদেশকে ঘিরে ছোট ছোট সন্ত্রাসী সেল গঠনের চেষ্টা চালাতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার বড় কোনো সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে এমন তথ্য দেওয়া হয়নি। বরং বিচ্ছিন্ন ও গোপন তৎপরতার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা নিয়ে সরকারের অবস্থানও সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রতিবেদনটির তথ্যকে এখনই খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না সরকার। তার মতে, এতে থাকা কিছু তথ্য অনুমাননির্ভর। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ২০০৫ সালে দেশজুড়ে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার পর বিষয়টি ভয়াবহভাবে সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে দেশে জঙ্গিবাদী হামলার ধরন ও সংগঠন নিয়েও নানা সতর্কতা দেখা গেছে।
এছাড়া বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উপস্থিতি নিয়েও একসময় আন্তর্জাতিক মহল ও সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। যদিও দেশে আইএসের সরাসরি সাংগঠনিক কাঠামো থাকার বিষয়টি সরকার অস্বীকার করেছিল, স্থানীয় কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর আইএসের আদর্শের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ ছিল ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলা।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জঙ্গি হামলার ঘটনা কমে গেলেই ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। প্রকাশ্য তৎপরতার পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক বা গোপন সেলের মাধ্যমে জঙ্গিরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তাই জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে না নিয়ে তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় স্বচ্ছতা, তথ্য যাচাই এবং কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরু|



