দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।
মামলাগুলো ২০০৭ সালে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা হয়েছিল। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির অভিযোগে ওই বছরের মার্চে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এতে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে পরবর্তীতে আরও ১৪ জনের নাম যুক্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়। সব মিলিয়ে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৩ আদালতের তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন।
অভিযোগ গঠনের আদেশে বলা হয়, গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগানসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউকের সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেরা লাভবান হন এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।
মামলায় মির্জা আব্বাসসহ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এসব মামলায় মির্জা আব্বাসকে খালাস দেওয়ার রায় দেন।
আরু|



