দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। ১৯৯৪ সালে করা তালিকায় থাকা ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ওষুধের দাম সমন্বয় নিয়ে জটিলতার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
বাপির নেতারা জানান, ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মধ্যে ১৯টি উৎপাদনে কোনো কোম্পানি নিবন্ধনই নেয়নি। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ওষুধের মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হচ্ছে। বাকি ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দাম সমন্বয় না করাকে দায়ী করছেন তারা।
তাদের দাবি, ১৯৯৪ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার এসব ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে দাম সেভাবে সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক ওষুধ উৎপাদন করা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হচ্ছে না।
এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহের দায়িত্ব সরকারি মালিকানাধীন এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) আরও বড় পরিসরে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাপি।
বাপির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসাইন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত ও সহজলভ্য থাকা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা ওষুধের বড় অংশই ইডিসিএল থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি উৎপাদন কারখানা থাকায় এসব ওষুধ উৎপাদনে তাদের সক্ষমতাও বেশি। তাই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের দায়িত্ব ইডিসিএলকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
বাপির বর্তমান মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন। তবে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি এসব ওষুধের মান নিশ্চিত করে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে বাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই এসব ওষুধ ইডিসিএলের মাধ্যমে উৎপাদন করে জনগণের কাছে সুলভ মূল্যে, এমনকি প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সভায় বাপির সিনিয়র সহসভাপতি ও ইউনিমেড ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. মোসাদ্দেক হোসেন দেশের ওষুধশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের একটি, যারা ওষুধ উৎপাদনে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের ওষুধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদেশি কোম্পানিগুলো সেই বাজার দখল করতে পারে। তাই এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে দেশীয় ওষুধশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে।
মতবিনিময় সভায় বাপির নেতারা বলেন, একদিকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখতেও সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিতে হবে।
বিএইচআরএফের জেনারেল সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভ বলেন, ওষুধ খাতের সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। সংকটের কারণ চিহ্নিত করা গেলে এর সমাধানও বের করা সম্ভব হবে।
আরু|



