রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি শোধনাগার স্থাপনের জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে ডেনমার্ক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘সায়েদাবাদ প্রকল্প’-এর শেষ পর্যায়ের কাজেও ডেনমার্ক প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা করবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। ঋণটি ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।
মেঘনা নদী থেকে পানি এনে ঢাকায় সরবরাহের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৯৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে লবণাক্ত পানি শোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। চাঁদপুর ও মোংলার মতো এলাকায় এ বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ডেনমার্ক।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গ্যাসের মতো পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত পানি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রায় ৭৪ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এ হার ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভূমিকম্পের আশঙ্কাও বাড়াতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
আরু|



