চীনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলি এবার বিশ্ববাজারে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউটিউবের বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে আন্তর্জাতিক সংস্করণের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নতুন করে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিডিও নির্মাতাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সংস্করণে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু বাধ্যবাধকতাও তুলে দিয়েছে বিলিবিলি। আগে চীনের বাইরে থেকে নিবন্ধনের সময় পাসপোর্ট বা সরকারি পরিচয়পত্র দিয়ে পরিচয় যাচাই করতে হতো। নতুন সংস্করণে সেই বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক সহজেই প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হতে পারবেন।
বিলিবিলি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্করণে চীনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিডিও একই প্ল্যাটফর্মে দেখানো হবে। এতে চীনের জনপ্রিয় কনটেন্ট যেমন আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে, তেমনি বিদেশি নির্মাতারাও তাদের ভিডিও বড় দর্শকগোষ্ঠীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
ইংরেজি ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা
বিশ্ববাজারে কার্যক্রম আরও সহজ করতে ইংরেজি ভাষার একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজও করছে বিলিবিলি। এর মাধ্যমে বিদেশি ভিডিও নির্মাতারা সহজে ভিডিও প্রকাশ করতে পারবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন দেশেও কর্মী নিয়োগ করছে বিলিবিলি। লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডন, মেক্সিকো সিটি, সাও পাওলো, ইস্তাম্বুল ও টোকিওতে কর্মী নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় ব্যবহারকারী ও ভিডিও নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পরিচালনায় এসব কর্মী কাজ করবেন।
শুধু দর্শক বাড়ানো নয়, ভিডিও নির্মাতাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করাও বিলিবিলির অন্যতম লক্ষ্য। নির্মাতা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ইউটিউবের সঙ্গে কতটা প্রতিযোগিতা করতে পারবে?
চীনে অ্যানিমেশন, গেমিং ও বিনোদনমূলক ভিডিওর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় বিলিবিলি। এবার সেই বিশাল দর্শকভিত্তি দেশের বাইরেও তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বিশ্ববাজারে ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে না। বিলিবিলির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে জনপ্রিয় ও মানসম্মত ভিডিও নির্মাতাদের আকৃষ্ট করা। কারণ দর্শক ও নির্মাতা দুই পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ভিডিও প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘমেয়াদে বড় হতে পারে না।
তথ্য সুরক্ষা নিয়েও উঠতে পারে প্রশ্ন
বিশ্ববাজারে সম্প্রসারণের সঙ্গে তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বিলিবিলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। চীনা মালিকানাধীন টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে তথ্য সুরক্ষা ও সরকারি নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।
বিলিবিলিও যদি পশ্চিমা বাজারে বড় ব্যবহারকারীভিত্তি তৈরি করতে পারে, তাহলে একই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিলিবিলির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট সরকারি অভিযোগ বা সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।
সব মিলিয়ে, বিলিবিলির আন্তর্জাতিক সংস্করণের অ্যাপ চালু শুধু নতুন একটি ভিডিও প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ নয়; বরং বিশ্ববাজারে বড় পরিসরে প্রবেশের পরিকল্পনারই ইঙ্গিত। এখন দেখার বিষয়, ইউটিউবের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের বাজারে বিলিবিলি কতটা জায়গা করে নিতে পারে।
আরু|



