আর মাত্র কয়েক মাস পরই মুসলমানদের পবিত্রতম মাসগুলোর একটি রমজান। এরই মধ্যে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে এসেছে। বিভিন্ন ইসলামি ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রমজান ১৪৪৮ হিজরির নতুন চাঁদের (নিউ মুন) সংযোগ ঘটবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে নতুন চাঁদের সরু বাঁকা অংশ বা হিলাল দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু অংশে চাঁদ দেখা সম্ভব হতে পারে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের আরও বিস্তৃত অঞ্চলে তা সহজে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার হতে পারে ১ রমজান ১৪৪৮ হিজরি। তবে রমজানের শুরু চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা ও সরকারি ঘোষণার ওপর। ফলে কোনো কোনো দেশে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। কয়েকটি বাংলাদেশভিত্তিক ইসলামি ক্যালেন্ডারে ৮ ফেব্রুয়ারিকেই ১ রমজান হিসেবে দেখানো হয়েছে। আবার স্থানীয়ভাবে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশে ২০২৭ সালের প্রথম রোজা ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি দুই তারিখের যেকোনো একটিতে হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
রমজান মাস ২৯ দিন নাকি ৩০ দিন হবে, সেটিও আগেভাগে নিশ্চিত করা যায় না। শাওয়ালের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজান শেষ হবে। প্রচলিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডারগুলোর একটিতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২৯ দিনের রমজান এবং ৯ মার্চ ঈদুল ফিতর দেখানো হয়েছে। অন্য কিছু গণনাভিত্তিক ক্যালেন্ডারে ৩০ দিনের রমজান ধরে ১০ মার্চ ঈদ ধরা হয়েছে।
সুতরাং বাংলাদেশে যদি ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা শুরু হয়, তাহলে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর ৯ অথবা ১০ মার্চ হতে পারে। আর যদি বাংলাদেশে প্রথম রোজা ৯ ফেব্রুয়ারি হয়, তাহলে ঈদ ১০ অথবা ১১ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
রমজান মাস চন্দ্রভিত্তিক হিজরি বর্ষপঞ্জির নবম মাস। চন্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতিবছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রায় ১০-১১ দিন করে এগিয়ে আসে।
পবিত্র এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারসহ নির্দিষ্ট কিছু কাজ থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। একই সঙ্গে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও দান-সদকার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
আরু|



