বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এর আগে ১৮ আগস্ট গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১০৩ মিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভও বেড়েছে। ১৮ আগস্ট এ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩২ দশমিক ৪৩৯ বিলিয়ন ডলার; দুই দিন পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ দেশের মোট আন্তর্জাতিক রিজার্ভকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণে পার্থক্য থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত রিজার্ভ তথ্যেও গ্রস ও বিপিএম-৬ দুই ধরনের হিসাব আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার** রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শুধু আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা এবং ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে দেশের রিজার্ভও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রতিফলন রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাসিক তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৫৭৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩২ দশমিক ৯৩০ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানি সক্ষমতার জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে রিজার্ভের টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করতে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, নতুন করে রিজার্ভ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির আভাস মিলছে। গ্রস রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় এখন ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকও বেশ কাছাকাছি।
আরু|



