স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজা-দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার কলাবাগানের বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দীপু মনির স্বামী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে ও শেষকৃত্যে অংশ নিতে দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন তাঁর মেয়ে তানী দীপাবলি এবং আইনজীবীরা। প্রথমে চার দিনের প্যারোল চাওয়া হলেও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্যারোলের সময় শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের গাড়িতে তাকে ঢাকায় আনা হয়।
ঢাকার কলাবাগানের বাসায় পৌঁছে স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন দীপু মনি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এরপর তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ নেওয়া হয় গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফনের কথা জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে তৌফিক নেওয়াজ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে অসুস্থ অবস্থায় তিনি কারাবন্দি দীপু মনির সঙ্গে দেখা করতে আদালতেও গিয়েছিলেন।
এদিকে দীপু মনি বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্ত হয়ে দীপু মনির এই শেষ বিদায় রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরু|



