সন্ধ্যা নামতেই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, আর সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পিক আওয়ারে সারাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২১১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতির কারণে মোট ৫২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-পিজিসিবির অঞ্চলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয়েছে ময়মনসিংহ জোনে। সেখানে ১ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ চাহিদার অঞ্চল ঢাকা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।
এ ছাড়া কুমিল্লা জোনে ১ হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫০ মেগাওয়াট, খুলনা জোনে ১ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৪৯ মেগাওয়াট এবং রাজশাহী জোনে ১ হাজার ৫৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
তবে দেশের সব অঞ্চলের পরিস্থিতি একই ছিল না। পিক আওয়ারেও চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম জোনে ১ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট, সিলেটে ৬৬৮ মেগাওয়াট, বরিশালে ৪৮১ মেগাওয়াট এবং রংপুরে ১ হাজার ৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে কোনো লোডশেডিং করতে হয়নি।
বিদ্যুৎ খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের সংকটও বড় চাপ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় দেশের তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
ফলে পিক আওয়ারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ধরে রাখতে বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে ১৯ আগস্টের হিসাবে চট্টগ্রামসহ চারটি অঞ্চলে পিক আওয়ারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
আরু|



