পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করেই জাহাজ কাটার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি জাহাজ কাটার সময় ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে সরকারি পর্যায়ে কমিটিও গঠন করা হয়।
দুর্ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন ও তদন্তে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করেই জাহাজ কাটার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ পদ্ধতির আওতায় আর্থিক জরিমানা নির্ধারণ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিনের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, ফেরদৌস স্টিলের পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
একই আদেশে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম পুনরায় শুরু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরসহ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ইয়ার্ড মালিকের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পর পরিবেশগত ছাড়পত্র সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিরাপত্তাবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা ‘লাল’ শ্রেণির শিল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ছাড়পত্রের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়। আইন ও পরিবেশগত শর্ত মানা ছাড়া জাহাজ কাটার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের ফলে এখন প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ১৪ আগস্টের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলোর পরিবেশগত সম্মতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরু|



