বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ছেলে অরবিন্দু রায়।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে দিনাজপুরের বিরলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে
সতীশ চন্দ্র রায় ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৯ নম্বর মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা করলেও পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৭ এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর-২ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন নির্বাচনী পর্যায়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ভূমিকা তাঁকে উত্তরাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতিতে পরিচিত মুখে পরিণত করে।
মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সতীশ চন্দ্র রায় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান। প্রথমে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পরবর্তীতে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মৃত্যুকালে সতীশ চন্দ্র রায় স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, অনুসারী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের প্রয়াণে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরু|



