বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন, কাঁচা মরিচ ও টম্যাটো আমদানিতে শুল্ক-কর কমানো এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়_এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো জানানো হয়।
র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি
মন্ত্রিসভা ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় নতুন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক আইনগত কাঠামো থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
র্যাবের বর্তমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত র্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালাগুলো প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
এপ্রিল-মার্চ হবে নতুন অর্থবছর
বাংলাদেশে বর্তমানে অর্থবছর চলে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। মন্ত্রিসভা এখন অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের যুক্তি, জুলাই-আগস্ট বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলতে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাজের সময় বাড়ে, গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষার আগেই উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সীমায় নতুন অর্থবছর চালু হবে।
এ জন্য সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কাঁচা মরিচ ও টম্যাটোর দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
বর্তমানে এসব পণ্য আমদানিতে মোট করভার ৬১ শতাংশ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে তা কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী মাসে ৩১ শতাংশ হবে।
সরকারের লক্ষ্য, মৌসুমি উৎপাদন ঘাটতি, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বাজারে কাঁচা মরিচ ও টম্যাটোর দাম বেড়ে গেলে আমদানির মাধ্যমে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ কমান।
আরু|



