ধর্মীয় আচারকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও দেখা যাচ্ছে পাঠা কেনাবেচার ব্যস্ততা। কোনো কোনো ভক্ত মানত পূরণ কিংবা নির্দিষ্ট পূজার আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে পাঠা কিনে মন্দিরে নিয়ে যান। এ কারণে পূজা সামনে এলে স্থানীয় হাটগুলোতেও পাঠার চাহিদা বাড়তে দেখা যায়।
তবে প্রশ্ন হলো, পাঠা বলির প্রচলন কবে থেকে শুরু এবং কেনই বা এই বলি দেওয়া হয়?
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, পশুবলির প্রথা বহু প্রাচীন। হিন্দুধর্মের শাক্তধারার পাশাপাশি লোকজ ও আঞ্চলিক ধর্মীয় সংস্কৃতিতেও পশুবলির প্রচলন ছিল। বিভিন্ন পুরাণ ও তান্ত্রিক গ্রন্থে পশু উৎসর্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সব হিন্দু সম্প্রদায় বা সব মন্দিরে পশুবলি প্রচলিত নয়।
‘বলি’ শব্দের অর্থও শুধু পশু হত্যা নয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দেবতার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু উৎসর্গ করাকেও বলি বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবে ফল, খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন উপকরণ উৎসর্গের রীতি ছিল; পরবর্তী সময়ে কিছু আচার-অনুষ্ঠানে পশু উৎসর্গও যুক্ত হয়।
পাঠা বলির ক্ষেত্রে অনেক ভক্তের বিশ্বাস, দেবতার উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করলে মানত পূরণ হয় বা মনস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে কালীপূজার মতো কিছু শাক্ত আচার-অনুষ্ঠানে এই রীতি দেখা যায়। তবে এটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আঞ্চলিক প্রথার বিষয় সব মন্দিরে এর প্রচলন নেই।
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন ঐতিহ্যের উদাহরণও রয়েছে। কুষ্টিয়ার খোকসা কালীপূজা মন্দিরের ইতিহাসে মহিষ ও পাঠা বলির পুরোনো প্রথার উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার আমল থেকেই সেখানে পূজাকে কেন্দ্র করে পাঠা বলির প্রচলন ছিল এবং ভক্তরা মানত হিসেবে পাঠা নিয়ে আসতেন।
তবে সময়ের সঙ্গে অনেক মন্দিরে পশুবলি বন্ধও হয়েছে। কোথাও পশুবলির পরিবর্তে প্রতীকী উৎসর্গের রীতি চালু হয়েছে। আবার কোথাও ভক্তদের মানতের সঙ্গে পাঠা বলির ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।
ফলে হাটে পাঠা কিনতে মানুষের যাওয়া শুধু পশু কেনাবেচার দৃশ্য নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস, মানত ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির প্রভাব।
আরু|খব



