বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভারতীয় প্রভাব, ক্রিকেটারদের ভূমিকা এবং আসন্ন ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এক নিবন্ধে তিনি দাবি করেছেন, দেশের সম্মানের প্রশ্নে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার না দিয়ে কিছু তারকা ক্রিকেটার ব্যক্তিস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
মাহমুদুর রহমানের দাবি, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত। তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানকে ২০২৫ সালের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলানোর জন্য চুক্তি করা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিষয়টি বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর বাংলাদেশ সরকার ভারতের বাইরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
মাহমুদুর রহমান মনে করেন, ওই পরিস্থিতিতে দেশের সম্মানকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনূস সরকারের বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল দৃঢ় অবস্থান। তবে তার অভিযোগ, কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন।
নিবন্ধে লিটন দাসের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেছেন তিনি। লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের ছিল না; এটি সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। পাকিস্তান সফরের উদাহরণ টেনে নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন লিটন।
অন্যদিকে, তামিম ইকবালের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, আইসিসি থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় অংশের অর্থায়ন হওয়ায় ক্রিকেটকে সব ধরনের রাজনৈতিক ও আবেগের বিষয় দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয় এমন অবস্থান তিনি নিয়েছিলেন।
মাহমুদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনেও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
তার দাবি, তৎকালীন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সময়ে ক্রিকেটারদের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও অনেক তারকা ক্রিকেটারের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
নিবন্ধে সাকিব আল হাসানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিভিন্ন বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমিনুল হক সাকিব ও মাশরাফিকে আবারও বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফেরানোর বিষয়ে যে নমনীয় অবস্থানের কথা বলেছিলেন, সেটির সমালোচনা করেছেন মাহমুদুর রহমান।
এদিকে, আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। এই সফর নিয়ে আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মাহমুদুর রহমান। তার আশঙ্কা, ভারত কোনো নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সফর স্থগিত করতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসির কাছে বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আইসিসির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এনে পরিস্থিতি পর্যালোচনারও আহ্বান জানিয়েছেন।
মাহমুদুর রহমানের মতে, বাংলাদেশে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। এরপরও ভারত সফর বাতিল করলে বাংলাদেশ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
নিবন্ধের শেষাংশে তিনি দেশের সম্মানকে ক্রিকেটের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কোনো বিরোধ তৈরি হলে বাংলাদেশ যেন দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানসহ অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সমর্থন নেয় এমন মত দেন তিনি।
তার বক্তব্য, ক্রিকেটের জনপ্রিয় তারকাদের প্রতি অতিরিক্ত আবেগ না দেখিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। দেশের স্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারকে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করারআহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আরু|খব



