বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়ে দৈনিক আজাদী কার্যালয়ের পাশের একটি ভবনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশিষ্ট সমাজসেবক হামিদ হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় পাঁচ জেলার প্রতিনিধি, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন সম্ভাবনা, পাহাড়-সমুদ্র ও নদীঘেরা বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। দেশের অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, বনজ সম্পদ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এখানকার অনেক সমস্যা এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে সমাধান হয়নি।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও অবকাঠামো নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
নাগরিক স্বার্থের কণ্ঠস্বর হবে ফোরাম
সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পাঁচ জেলার নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করা জরুরি। যোগাযোগ, পর্যটন, পরিবেশ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, নাগরিকদের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, পেশা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থে কাজ করাই হবে ফোরামের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা, জনমত সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখবে ফোরাম।
সভায় দীর্ঘ আলোচনা ও উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু সাঈদকে চেয়ারম্যান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহাফুজুর রহমানকে কার্যকরী সভাপতি, ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, হামিদ হোসাইনকে ভাইস চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিনকে মহাসচিব এবং সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক** নির্বাচিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণ করা হলেও ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য পদ-পদবি পরবর্তীতে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। ওই সভায় পাঁচ জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। এরপর ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
পাঁচ জেলার সমন্বয়ে কার্যক্রম
নবগঠিত ফোরামের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত করা হবে। প্রতিটি জেলার স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা ফোরামের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
ফোরামের সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত করা; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর দাবি উত্থাপন; চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া; কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা; পাহাড়ি তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করা; পাহাড়, নদী, বন ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি; বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সুপারিশ প্রণয়ন; নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য দাবির বিষয়ে জনমত সৃষ্টি; গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন; পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো।
সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এ ফোরাম ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে এবং মানুষের অধিকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রশ্নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভা থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক, পেশাজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, তরুণ ও নারী প্রতিনিধিদের এ নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের কথা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে ঐক্য, সমন্বয় ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- মনসুর আলম, বেলাল উদ্দিন, আনিস খোকন, মহাজন, মো. আলী আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ, বাবলু, আলী, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, আবু ছৈয়দ, মাহফুজুর রহমান, অরূপ চন্দ্র, ড. সানাউল্লাহ, মো. মহসিন, সোহেল রানা, আবু বকর, জসিম উদ্দিন, আজগর আলী মানিক, নুরুল আজিম, সাংবাদিক আকতার উদ্দিন রানা, মো. সোহেল রানা, আবদুল গফুর, শেখ নজরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম সাগর, আবদুল মন্নান, মাসুদুর রহমান, শাহাজাদা ইব্রাহীম, ড. এনামুল হক, শাহাদাৎ, মিজানুর রহমান, জাহেদ তুষার, জুয়েল দেব, কাউছার, আয়ুব খান, মো. আবু, সাইফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন খন্দকার, ফরহাদ মোস্তাক, সোহেল মো. ফখরুদ্দিন, বিপ্লব বিজয়, আলী আজম, ইব্রাহীম বড়ুয়া, আলী আজগর খান, শামসুল আলম, দিল আফরোজ, ইলিয়াস ইলু, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন, জসিম, শাহরিয়া রিপন, এামুন, প্রকৌশলী ইমরান, সাংবাদিক মিজান সমকান্তি, হামিদ হোসেন, নুরহুদা, লায়ন নজরুল, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, রতন বড়ুয়া, স.ম. জিয়া, দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, জাবেদ, আবু ছিদ্দিক, মো. শাকিম, সাংবাদিক জাহাঙ্গির আলম, আবদুল মান্নান, পংকজ পাল, শামসুল হায়দার তুষার, ওহীম দাশ, মো. ইদ্রিস, খোকন মজুমদার, অধ্যাপক জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, শারমিন তাহেরা, আরিফ চৌধুরী, লিঠু সূত্রধর, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন খোকন, কাহীনুর, মো. ইদ্রীস, ফখরুল ইসলাম পলাশ, মো. ইউনুস, আবদুল হালেদ, শাহ আলম বউ বাজার, আজগর খান, মো. গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিক কামাল, ওসমান গণি, শফিউল আলম, সেলিমউল্ল্যাহ চৌধুরী, প্রকৌশলী অসুখ, নুর মোহাম্মদ, মুন্নি বেগম, ছৈয়দ মো. সেলিম, মো. দিদারুল আলম, মিনহাজুল ইসলাম, জমির ফটিকছড়ি, রুবেল বড়ুয়া, ইরফানুল ইসলাম, মো. রহিম, সাংবাদিক শহীদুল হক বাবলু, দুলাল কান্তি বড়ুয়া, মো. শওকত হোসেন, মামুদুল আলম, মহিউদ্দীন বাবলু, নিশী চৌধুরী, নজরুল মো. রাশেদ, আবুল কাশেম, মো. মফিজুর রহমান, মো. ইসহাক, আবদুল মান্নান, সাংবাদিক নুর মো. রানা, মো. নাজিম উদ্দিন, মনজুরুল আলম, খুশি নিরব, সাইফুল মজুমদার, এম নুরুল হুদা চৌধুরী, আজগর হোসেন তালুকদার, ওহিমা আক্তার ডলি, ওয়াহিদুল আলম, শিউলি আক্তার, নুর হুদা, লাভলী ডিউ, নিলুফা রহমান, আবদুল বাতেন, এস কফিল উদ্দিন, বিপ্লব দাশ গুপ্ত, মো. সেলিম, আহমেদ কবির, মাহফুজুর রহমান, মো. ইরফানুল ইসলাম, এম হামিদ হোসাইন, আক্তার হোসাইন, জিয়াউর রহমান ও মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
আরু|খব



