বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে টানাপোড়েনের মধ্যে, তখন দুই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সামনে আসছে।
ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনকে ঘিরে ঢাকায় একটি কথিত আকস্মিক সফরের খবর ছড়িয়েছে। তবে এই সফরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মার্চের শুরুতে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী দিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন, সামরিক গোয়েন্দা প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠককে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় চালুর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এরই মধ্যে ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করেছে ভারত দ্রুত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকেও তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে নয়াদিল্লি আগ্রহী এবং দুই দেশের সমস্যাগুলো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
এদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েন নতুন করে বাড়ে দিল্লিতে তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের পর।
বাংলাদেশ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বলছে একদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের চাপ, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ঢাকা-দিল্লির যোগাযোগ বাড়ছে।
তবে এখনো বড় প্রশ্ন এই যোগাযোগ কি সত্যিই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন উদ্যোগ, নাকি নিরাপত্তা ও হাসিনা ইস্যুতে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতার চেষ্টা চলছে?
এর উত্তর মিলতে হলে আগামী দিনের কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের দিকে নজর রাখতে হবে।
আরু|খব



