ভারতের ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত তাদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন ভিস্টা ওয়ান পয়েন্ট’-এর আওতায় দিল্লির বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ৬ বাংলাদেশি তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সফরে সর্বোচ্চ ১৫ দিন ভারতে অবস্থানের অনুমতি থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করছিলেন।
অভিযানের সময় তাদের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হয়। পরে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়। পাশাপাশি তাদের নামে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আটক ৬ বাংলাদেশিকে দিল্লির সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারতে তাদের অবস্থানসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।
এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, দুই নারীসহ ৬ বাংলাদেশিকে আসাম পুলিশ আটক করে পরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অভিযান চালিয়ে ওই বাংলাদেশিদের শনাক্ত ও আটক করা হয়। তবে সীমান্তের ঠিক কোন সেক্টর থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
এর আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং চলমান পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আসাম পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৭ বাংলাদেশিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও আসাম পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ-সংলগ্ন আসামের প্রায় ১,৮৮৫ কিলোমিটার সীমান্তে টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে দিল্লিতে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ৬ বাংলাদেশি এবং আসামে আটক ও ফেরত পাঠানো ৬ বাংলাদেশির ঘটনা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেনি।
আরু/



